ট্রান্সফরমার পর্ব-২ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর | Transformer Bangla

3
10362
ট্রান্সফরমার

ট্রান্সফরমার পর্ব-২ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর

আজ আপনাদের ট্রান্সফরমার পর্ব-২ এ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর জানাতে এসেছি বন্ধুরা । ট্রান্সফরমার এর গঠন নিয়ে এর আগে আমরা আলোচনা করেছিলাম তাই আরও বেশি জানতে আমরা ট্রান্সফরমারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং উত্তর তুলে ধরছি আপনাদের কাছে । আজ আমরা যেসব প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর জানবো সেগুলো হলোঃ

১। ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং কাকে বলা হয় ?

২। ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং করার শর্ত কি কি?

৩। ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং কতো প্রকার এবং কি কি ?

৪। আইডিয়াল ট্রান্সফরমার কাকে বলে ?

৫। আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্য কি কি ?

৬। ট্রান্সফরমেশন রেশিও বলতে কি বোঝায়?

৭। কোন ট্রান্সফরমার স্টেপ ডাউন নাকি স্টেপ আপ সেটা বোঝার সহজ উপায়  কোনটা ?

৮। সবসময় ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা কেন বেশি হয় ?

৯। কোন ট্রান্সফরমারের রেটিং kW এ না লিখে
     kVA লেখা হয়, এর কারন কি?

১০। ট্রান্সফরমার প্যারালেল অপারেশন কি?

১১। প্যারালেল অপারেশনের শর্তগুলো কি কি ?

১২। পোলারিটি না জেনে ট্রান্সফরমারের প্যারালেল অপারেশন করা হলে কি কি সমস্যা হবে?

ট্রান্সফরমার কি এবং এর গঠন সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুন ~পর্ব-১

ট্রান্সফরমার

ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং কাকে বলা হয় ?

যখন ৩ ফেজ ট্রান্সফরমার ব্যবহার না করে ৩টা ১ ফেজ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করার মাধ্যমে ৩ ফেজ সাপ্লায় দেয়া হয় তাকে ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং পদ্ধতি বলা হয় । অর্থাৎ ১ ফেজ ট্রান্সফরমারের সাহায্যে ৩ ফেজ সাপ্লায় বাবস্থাকে  ট্রান্সফরমার ব্যাংকিং বলে ।

ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং করার শর্ত কি কি?

১। সংযোগ দেয়া প্রত্যেকটা ট্রান্সফরমারের Kva রেটিং অবশ্যই এক থাকতে হবে ।

২। ট্রান্সফরমার তিনটার ভোল্টেজ রেটিং সমান হতে হবে ।

৩। ট্রান্সফরমারগুলো সঠিক পোলারিটি মতো সংযোগ করতে হবে ।

ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং কতো প্রকার এবং কি কি ?

ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং সাধারনত ছয় প্রকার হয়ে থাকে, সেগুলো হলোঃ

১। ডেল্টা – ডেল্টা কানেকশন ।

২। স্টার – স্টার কানেকশন ।

৩। স্টার – ডেল্টা কানেকশন ।

৪। ডেল্টা – স্টার কানেকশন ।

৫। (V-V) অথবা ওপেন ডেল্টা কানেকশন ।

৬। T – T  কানেকশন ।

আইডিয়াল ট্রান্সফরমার কাকে বলে ?

যে ট্রান্সফরমারের কোন প্রকার পাওয়ার লস নেই তাকে আইডিয়াল ট্রান্সফরমার বলা হয়, একে আদর্শ ট্রান্সফরমারও বলা হয়ে থাকে । এর মানে হচ্ছে আমরা ইনপুট এবং আউটপুটে সমান পাওয়ার পাব । ইনপুটে যদি ১০০ KW দেয়া হয় তাহলে আউটপুটেও ১০০ KW পাব । যদিও বাস্তবে পাওয়ার লস হয়না এমন কোন মাশিন নেই, কিন্তু এই ট্রান্সফরমারে পাওয়ার লস খুবই কম তাই একে আইডিয়াল ট্রান্সফরমার বলা হয় ।

আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্য কি কি ?

১। আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের অয়ান্ডিং রেজিস্টান্স খুব কম হবে ।

২। আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের করে লস থাকা যাবেনা ।

৩। কোন লিকেজ ফ্লাক্স থাকা যাবেনা ।

৪। আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের কোরের পারমিটিভিটি অনেক উচ্চমানের হবে ।

ট্রান্সফরমার কি এবং এর গঠন সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুন ~পর্ব-১

ট্রান্সফরমেশন রেশিও বলতে কি বোঝায়?

একটি ট্রান্সফরমারের দুইদিকের ইন্ডিউসড কারেন্ট এবং ভোল্টেজ ও কয়েলে যে প্যাচ থাকে সেটার সাথে নির্দিষ্ট একটা অনুপাত অনুযায়ী হয়ে থাকে এই অনুপাকেই টার্ন রেশিও অথবা ট্রান্সফরমেশন রেশিও বলা হয় । ট্রান্সফরমেশন রেশিওকে a দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তাই a=E/E=I/I=N/N এভাবে রেশিও বোঝানো হয় ।
ট্রান্সফরমার

কোন ট্রান্সফরমার স্টেপ ডাউন নাকি স্টেপ আপ সেটা বোঝার সহজ উপায় কোনটা ?

এইখানে খুব সহজে কোন ট্রান্সফরমারের স্টেপ ডাউন নাকি স্টেপ আপ বের করা যায় ।

কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি সাইডের থেকে যদি সেকেন্ডারি সাইডে প্যাঁচের সংখ্যা কম হয় তখন সেই ট্রান্সফরমারকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলা হয় ।

আবার, যখন কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি সাইডের থেকে যদি সেকেন্ডারি সাইডে প্যাঁচের সংখ্যা বেশি থাকে তখন সেই ট্রান্সফরমারকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে ।

তাই বলা যায় কয়েলের প্যাঁচের সংখ্যা দেখেই আমরা খুব সহজে কোন ট্রান্সফরমারের স্টেপ ডাউন নাকি স্টেপ আপ অবস্থা বুঝতে পারি ।

সবসময় ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা কেন বেশি হয় ?

আমরা আগেই জেনেছি ট্রান্সফরমার একটা স্থির অথবা স্ট্যাটিক ডিভাইস , এর কোন ঘূর্ণায়মান পার্ট থাকেনা ।

তাই ট্রান্সফরমারের ঘর্ষণজনিত লস হয় না । আমরা যেসকল ঘূর্ণায়মান ডিভাইস ব্যবহার করে থাকি সেগুলোর এই ঘর্ষণজনিত লস হয়ে থাকে জার কারনে কর্মদক্ষতা কিছুটা কমে যায় । ট্রান্সফরমারের এই ঘর্ষণজনিত লস না থাকার কারনেই কর্মদক্ষতা বেশি হয়ে থাকে । সাধারনত ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা ৯৫%-৯৮% পর্যন্ত হয় ।

ট্রান্সফরমার কি এবং এর গঠন সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুন ~পর্ব-১

কোন ট্রান্সফরমারের রেটিং kW এ না লিখে
kVA লেখা হয়, এর কারন কি?

আমরা জানি ট্রান্সফরমারে দুই ধরনের লস হয়ে থাকে । কোর লস এবং কপার লস হচ্ছে ট্রান্সফরমারের মোট লস । এখানে কপার লস ডিপেন্ড করে কারেন্ট এর উপড়ে এবং কোর লস ডিপেন্ড করে ভোল্টেজের উপড়ে । তাই আমরা বলতে পারি ট্রান্সফরমারের মোট যে লস হয় সেটা ভোল্টেজ এবং কারেন্ট এর মাঝে যে ফেজ কোন থাকে সেটার উপড়ে ডিপেন্ড করে না । যখন আমরা KW লিখবো তখন এর সাথে ভোল্টেজ এবং কারেন্ট এর মাঝে ফেজ এঙ্গেল অথবা পাওয়ার ফ্যাক্টর এর সাথে জরিত । কিন্তু KVA এর সাথে ভোল্টেজ এবং কারেন্ট এর মাঝে ফেজ এঙ্গেল অথবা পাওয়ার ফ্যাক্টর জরিত নয় । এই কারনেই আমরা ট্রান্সফরমারের  রেটিং kW এ না লিখে kVA তে লিখি ।

ট্রান্সফরমার প্যারালেল অপারেশন কি?

চাহিদা অনুযায়ী পাওয়ার সরবরাহ করতে গেলে অনেকসময় অতিরিক্ত কিছু লোড সরবরাহ করার প্রয়োজন হয়ে পরে । কোন বাসবার অথবা একটা ট্রান্সফরমার অন্য একটা ট্রান্সফরমারের সাথে প্যারালেল সংযোগ এর মাধ্যমে এই বাড়তি লোড সরবরাহ করা হয় । একেই ট্রান্সফরমারের প্যারালেল অপারেশন বলা হয় ।

প্যারালেল অপারেশনের শর্তগুলো কি কি ?

ট্রান্সফরমারের প্যারালেল সংযোগ দিতে হলে কিছু শর্ত মেনে করতে হয়,সেগুলো হলোঃ

১। পোলারিটি ঠিক রেখে সংযোগ করতে হবে ।

২। ট্রান্সফরমারের সমতুল্য রিয়াক্ট্যান্স ও রেজিস্ট্যান্স   এর রেশিও সমান থাকা লাগবে ।

৩। ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারি ও প্রাইমারি ভোল্টেজ এর ফেজ ডিসপ্লেসমেন্ট সমান হওয়া লাগবে ।

৪। সবগুলো ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ রেটিং অবশ্যয় সমান হতে হবে ।

৫। ট্রান্সফরমারের প্রতিটির ফেজ সিকুয়েন্স সমান হওয়া লাগবে ।

৬। ট্রান্সফরমারের সমতুল্য ইম্পিডেন্স নিজস্ব KVA রেটিং এর উল্টানুপাতিক হবে ।

ট্রান্সফরমার

পোলারিটি না জেনে ট্রান্সফরমারের প্যারালেল অপারেশন করা হলে কি কি সমস্যা হবে?

১। ট্রান্সফরমারের নিজেদের মাঝে সার-কুলেটিং কারেন্ট প্রবাহিত হয় ।

২। ট্রান্সফরমারে শর্টসার্কিট হয়ে যাবে ।

৩। পুরো ট্রান্সফরমার নস্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে ।

৪। সংযোগ দেয়া লোডে কারেন্ট প্রবাহিত হয় না ।

ট্রান্সফরমার কি এবং এর গঠন সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুন ~পর্ব-১

বন্ধুরা আপনাদের জন্য ট্রান্সফরমার নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর নিয়ে আজকের আয়োজনে এই পর্যন্তয় ছিলো । আমরা আবার আসবো আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে । আমাদের লিখা ভালো লাগলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন আশা করছি । আপনাদের সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য । ভালো থাকুন সবাই, EEEcareer এর সাথেয় থাকুন সবসময় ।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY