ট্রান্সফরমার কি এবং এর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত | Transformer Bangla

3
6564
ট্রান্সফরমার

ট্রান্সফরমার কি এবং এর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত

বন্ধুরা আজ আমরা ট্রান্সফরমার কি এবং এর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো । আমরা জানি ট্রান্সফরমার একটি ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইস । ইলেক্ট্রিক্যাল ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন এর জন্য ট্রান্সফরমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ । ট্রান্সফরমার ছাড়া ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন কখনো কল্পনাও করা যায় না । তাই চলুন আজ আমরা ট্রান্সফরমার এর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা নেই ।

আমরা আজ ট্রান্সফরমারের ২টা বিষয় জানবঃ

১। ট্রান্সফরমার কাকে বলে ।

২। ট্রান্সফরমারের গঠন ।

এটি (ট্রান্সফরমার) একটি বৈদ্যুতিক স্থির যন্ত্র অথবা ডিভাইস, যার দ্বারা ফ্রিকুয়েন্সী এবং পাওয়ার এর কোন প্রকার পরিবর্তন না করে বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়া চুম্বকীয় ভাবে সংযুক্ত ২টা কয়েলে প্রয়োজন অনুসারে ভোল্টেজ বাড়িয়ে অথবা কমিয়ে একটা সার্কিট হতে অন্য সার্কিটে পাওয়ার স্থানান্তরিত করাহয় তাকেই ট্রান্সফরমার বলে ।

ট্রান্সফরমার

ট্রান্সফরমারের গঠন

ট্রান্সফরমার Winding  (উইন্ডিং), Core (কোর),Earth Point (আর্থ পয়েন্ট), Bushing (বুশিং),Insulation (ইন্সুলেশন),Breather (ব্রীদার), Tank (ট্যাংক),Transformer Oil (ট্রান্সফরমার ওয়েল), Buchholz relay (বুখোলজ রীলে) এবং Conservator (কনজারভেটর) নিয়ে গঠিত ।

ট্রান্সফরমারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর জানতে এখানে ক্লিক করুন ~ পর্ব-২ 

চলুন এগুলোর বিস্তারিত জানবো এবার,

Winding  (উইন্ডিং): এর উইন্ডিংয়ে দুইটা অথবা তার থেকে বেশি কয়েল থাকতে পারে । ট্রান্সফরমার এর কয়েল সমূহ সুপার এনামেল তামার তার ( Copper Wire ) এর হয় । আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আগে তৈরি করা ফরমার মাঝে কোয়েলগুলো একটা কোরের উপরে বসান হয়ে থাকে । ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারী উইন্ডিং এবং প্রাইমারী উইন্ডিং এর প্যাঁচের সংখ্যা এবং সাইজ কখনোয় সমান হয় না । আমাদের কাঙ্কখিত কারেন্ট এবং ভোল্টেজ আমরা এই সাইজ এবং প্যাঁচের মাদ্ধমেয় পাই ।

Core (কোর): যে ইস্পাতের ফ্রেমের উপরে উইন্ডিংগুলো জরানো থাকে সেটাকে কোর (Core) বলে । কোরে ইস্পাত ব্যবহার করার ফলে প্রাইমারী কয়েলে উৎপন্ন হওয়া ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স খুব সহজেই সেকেন্ডারী কয়েলে যাওয়ার সুযোগ হয় । আবার কোর এর বাবহারের কারনেই কোর লস তৈরি হয় । এডি কারেন্ট লস এবং হিস্টেরিসিস লসের যোগফলই হচ্ছে মোট কোর লস ।

Earth Point (আর্থ পয়েন্ট): সাধারানত ট্রান্সফরমারে অন্তত দুইটা আর্থ পয়েন্ট দেয়া হয় । এই আর্থ পয়েন্ট দেবার উদ্দেশ্য হল নানারকম দুর্ঘটনা থেকে ট্রান্সফরমারকে রক্ষ্যা করা । অনেক সময় বজ্রপাতের হাত থেকেও ট্রান্সফরমারকে রক্ষ্যা করে এই আর্থ পয়েন্ট । দুইটা আর্থ পয়েন্ট ডাইরেক্ট মাটির সাথে সংযোগ করে দেয়া হয় ।

ট্রান্সফরমার

Bushing (বুশিং): ট্রান্সফরমারে বুশিং এর মাধ্যমে  উইন্ডিং এর টার্মিনালগুলো ট্যাংকের বাহিরে আনা হয়ে থাকে । বুশিং এর মাধ্যমেই সেকেন্ডারী কয়েল প্রান্ত লোডের সাথে এবং প্রাইমারী কয়েল প্রান্ত অল্টারনেটিং কারেন্টঙ্গের সাথে সংযোগ কপ্রা হয়ে থাকে । ট্রান্সফরমারে বুশিং দুই ধরনের হয়, লো সাইড বুশিং এবং হাই সাইড বুশিং । আমরা জানি যে ট্রান্সফরমারে সেকেন্ডারী কয়েল ভোল্টেজ এবং প্রাইমারী কয়েল ভোল্টেজ সমান হয় না । এখানে হাই সাইড বুশিং আকারে বড় হয় এবং লো সাইড বুশিং আকারে ছোট হয়ে থাকে ।

Insulation (ইন্সুলেশন): ট্রান্সফরমারে কয়েলের ইন্সুলেশন সুপার এনামেল আবরণ দিয়েই হয় । আবার যখন কয়েল তৈরী করা হয় তখন প্যাঁচের একটু পরে পরে লেদার ওয়েব পেপার বা অ্যাম্পিয়াল ক্লথ ব্যবহার করা হয় । কয়েল থেকে কোরকে ইন্সুলেট করার জন্য ইন্সুলেটিং পেপার ব্যবহার করা হয় কোরের উপরে । অনেক সময় বড় ট্রান্সফরমারে ক্ষেত্রে ইন্সুলেটিং ওয়েল ব্যবহার করে কোর এবং কোয়েলকে আলাদা করা হয় ।

ট্রান্সফরমারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর জানতে এখানে ক্লিক করুন ~ পর্ব-২ 

Breather (ব্রীদার): এটা একটা পাত্র বিশেষ, এর মাঝে সিলিকা জেল নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে । ব্রীদার এর কাজ হল ট্রান্সফরমার ট্যাংকে জলীয়বাষ্প মুক্ত বাতাস প্রবেশ করানো । এই পাত্রটা কাঁচের থাকে, ট্রান্সফরমারে বাতাস প্রবেশের সময় জলীয়বাষ্প শুষে নেয়া হচ্ছে সিলিকা জেল এর মূল ।

ট্রান্সফরমার

Tank (ট্যাংক): এটা ট্রান্সফরমারের একেবারে বাহিরের অংশ । এই ট্যাংক এর মাঝেই কোর, কয়েল এবং ওয়েল দেয়া হয় । মেটাল দিয়ে এই ট্যাংক তৈরি করা হয় । ট্যাংক এর তলানিতে কোর বসানো হয় এবং কয়েল গুলো ট্রান্সফরমার ওয়েল দ্বারা ডোবান থাকে ।

Transformer Oil (ট্রান্সফরমার ওয়েল): ট্রান্সফরমার ওয়েল এর মূল কাজ হলো ট্রান্সফরমারকে ঠাণ্ডা রাখা । এই ওয়েল ইন্সুলেশন তৈরি করে, মানে এটার কন্ডাক্টিভিটি নেই । পুরো ট্রান্সফরমারের মধ্যে ট্রান্সফরমার ওয়েল দিয়ে ভর্তি করা থাকে ।

Thermometer (থার্মোমিটার): ট্রান্সফরমার ওয়েলের তাপমাত্রা মাপার জন্য একটা যন্ত্র ব্যবহার করা হয় যাকে থার্মোমিটার বলা হয় । এই থার্মোমিটারের  তাপমাত্রা লেভেল বাহিরে থেকেই দেখা যায় ।

Buchholz relay (বুখোলজ রীলে): ট্রান্সফরমারের ভেতরে কখনো কোন কারনে গ্যাস জমে গেলে সেটা যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় সেটার জন্য বুখোলজ রীলে ব্যবহার করা হয় । আবার ট্রান্সফরমার ওয়েলের গুনাগুণ কমে গেলেও বুখোলজ রীলে সেটার সংকেত দেয় । কনজারভেটর এবং ট্রান্সফরমার ট্যাংক এর সংযোগকারী পাইপের মাঝে বুখোলজ রীলে ব্যবহার করা হয় ।

ট্রান্সফরমার

Conservator (কনজারভেটর): আমরা জানি ট্রান্সফরমার ওয়েল ঠান্ডা্র কারনে আয়তনে কমে আবার গরমের কারনে আয়তনে বাড়ে । ট্রান্সফরমার ওয়েল এর বারা কমার কারনে ট্রান্সফরমার ট্যাংক থেকে একটা পাইপের মাধ্যমে কনজারভেটর নামে একটা ছোট ট্যাংক ব্যবহার করা হয় । গরম হয়ে যাওয়ার কারনে কনজারভেটরেজাওয়ারপ্রবেশ করে এবং ঠান্ডা্ হবার পরে আবার ট্রান্সফরমার ওয়েল সংকুচিত হয়ে ট্রান্সফরমার ট্যাংকে প্রবেশ করে ।

ট্রান্সফরমারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর জানতে এখানে ক্লিক করুন ~ পর্ব-২ 

আমাদের ট্রান্সফরমার নিয়ে আজকের আয়জন এই পর্যন্তয় ছিল । ট্রান্সফরমারের আরো পর্ব নিয়ে আপানাদের মাঝে আবার হাজির হব । আমাদের লিখাগুলো ভালো লাগলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন আশা করছি । আপনাদের রেসপন্স আমাদের আরও লিখার উৎসাহ দিবে । সুস্থ থাকুন, EEEcareer এর সাথেয় থাকুন ।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY