বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ ধারনাসমূহ | Basic Electronics In Bangla

0
5354
বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ ধারনাসমূহ

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স এর আজকের পর্বে আমরা বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের সাথে পরিচিত হব এবং এদের কাজ সম্পর্কে ধারনা নিব । বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স যেহেতু আজকে আমাদের লিখার শিরোনাম তাই ইলেক্ট্রনিক্স এর একেবারে বেসিক যে ধারনাগুলো সকলের থাকা প্রয়োজন সেইসব নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন ।

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স এর যেসকল বিষয় জানবো আজঃ

১। ক্যাপাসিটর কাকে বলে এবং এর কাজ ।

২। রেজিস্টর কাকে বলে এবং এর কাজ কি ?

৩। পটেনশিওমিটার কি এবং এর কাজ কি ?

৪। ইন্ডাক্টর কি এবং এর কাজ ।

৫। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট মানে কি, এটার কাজ কি কি ?

৬। ট্রানজিস্টর কাকে বলে এর কাজ কি ?

৭। রেকটিফাইং ডায়োড মানে কি এবং এর কাজ ।

৮। লাইট ইমিটিং ডায়োড কাকে বলে, এর কাজ কি?

চলুন বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স এর উপড়ের বিষয়গুলো নিয়ে একটু বিস্তারিত জানবো এবার ।

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

ক্যাপাসিটর কাকে বলে এবং এর কাজ

এক কথায় বলা যায় ক্যাপাসিটর অর্থ হচ্ছে ধারক আবার একে কন্ডেন্সারও বলা হয় । কোন সার্কিটে ক্যাপাসিটর সোর্স হতে বৈদ্যুতিক এনার্জি গ্রহন করে । ক্যাপাসিটরের এই বৈদ্যুতিক চার্জ বা এনার্জি ধারন বা গ্রহন করার ধর্মকে বলা হয় ক্যাপাসিটেন্স । কোন অপরিবাহী মাধ্যমকে দুটি পরিবাহী প্লেটের মাঝে বসিয়ে ক্যাপাসিটর গঠিত । অপরিবাহী মাধ্যমকে বলা হয়  “ডাই-ইলেক্ট্রিক” এবং পরিবাহী প্লেটেকে বলা হয় “ইলেক্ট্রড”

যখন ক্যাপাসিটরের প্লেটেগুলোর মধ্যে কোন পটেনশিয়াল পার্থক্য থাকেনা তখন একে “ডিসচার্জ” বলে আবার যখন প্লেটেগুলোর মধ্যে পটেনশিয়াল পার্থক্য থাকে তখন ক্যাপাসিটরকে “চার্জড” বলে । ক্যাপাসিটরের একক হচ্ছে ফ্যারাড  (F)  মাইক্রোফ্যারাড (mF)  এবং এর প্রতীক হচ্ছে C

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

রেজিস্টর কাকে বলে এবং এর কাজ কি ?

এটি একটি প্যাসিভ ইলেক্ট্রিক্যাল ডেভাইস । রেজিস্টরের কাজ হচ্ছে  ইলেক্ট্রনিক্স এবং ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহকে বাঁধা প্রদান করা । কোন সার্কিটে ভোল্টেজ ড্রপ ঘটিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে রেজিস্টর । আর রেজিস্টরের এই ধর্মকে রেজিস্টেন্স  বলা হয় । একে R অথবা r দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ওহম (ohm)

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

পটেনশিওমিটার কি এবং এর কাজ কি ?

সাধারনত ভেরিয়াবল রেজিস্টরকেই বলা হয় পটেনশিওমিটার । ইলেক্ট্রিক্যাল অথবা ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে যেখানে রেজিস্টেন্স এর মান কম বেশি করার প্রয়োজন পরে সেখানে পটেনশিওমিটার ব্যাবহার করা হয়ে থাকে । এরকম কিছু ডিভাইস হচ্ছে, টিভির ভলিয়োম কন্ট্রল, ক্যাসেট এবং রেডিও এর ভলিয়োম কন্ট্রল ইত্যাদি । সাধারনত একটি প্লাস্টিকের বেসের উপরে কার্বন ফিল্মের স্তর বসানো হয় আর এই স্তরটি ভেরিয়াবল রেজিস্টেন্স এর কাজ করে থাকে ।

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

ইন্ডাক্টর কি এবং এর কাজ

এটি একধরনের পরিবাহী তারের কয়েল বা কুন্ডলি । কোন পরিবাহী তার যদি কোন পরিবাহী পদার্থের চারপাশে জরানো হয় তাহলে সেই পদার্থের ইন্ডাকট্যান্স অনেক বেড়ে যায় । ইন্ডাকট্যান্স হচ্ছে ইন্ডাক্টরের ধর্ম , কোন কয়েলের কারেন্ট পরিবর্তন করার ফলে পরিবাহী পদার্থের ভোল্টেজ উৎপন্ন করার সামর্থ্য কে বলা হয় ইন্ডাকট্যান্স । একে L দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং ইন্ডাকট্যান্স এর একক হচ্ছে হেনরি (H)

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট মানে কি, এটার কাজ কি কি ?

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটকে সিলিকন চিপও বলা হয়ে থাকে । সংক্ষেপে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটকে আইসি (IC ) বলা হয় । ক্ষুদ্রাকৃতির এবং পাতলা সিলিকন ক্রিস্টালের উপরে এক অথবা আকাধিক সার্কিট স্থাপনের মাধ্যমে যে ডিভাইস তৈরি করা হয় তাকে বলা হয় আইসি (IC ) । এই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের মাধ্যমে অনেকগুলো সার্কিটের কাজ একত্রে করা সম্ভব । এর কোন নির্দিষ্ট একক অথবা প্রতিক নেই, কিছু নম্বরযুক্ত পিন বা টার্মিনালের মাধ্যমে আইসি (IC ) কে সনাক্ত করতে হয় ।

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

ট্রানজিস্টর কাকে বলে এর কাজ কি ?

এটি একটি তিন টার্মিনাল, তিন স্তর, দুই জাংশন বিশিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস । ট্রানজিস্টর সুইচিং এর কাজ করে এবং সিগনালের শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে । গঠন অনুসারে ট্রানজিস্টর দুই প্রকার যথাঃ NPN এবং  PNP ট্রানজিস্টর । অর্থাৎ দুটি পি-টাইপের মাঝে একটি এন-টাইপ এবং দুটি এন-টাইপের মাঝে একটি পি-টাইপ সেমিকন্ডাক্টর বসিয়ে ট্রানজিস্টর গঠিত । এর তিনটি স্তরের নাম হলোঃ বেস  (Base) ইমিটর (Emitter) এবং কালেক্টর (Collector)

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

রেকটিফাইং ডায়োড মানে কি এবং এর কাজ

কোন একটি এন-টাইপ (N-Type) এবং পি-টাইপ (P-Type) ক্রিস্টালকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ করা হলে দুই ক্রিস্টালের মাঝখানে একটা জাংশন (Junction) তৈরি হয়ে যায়, একে বলা হয় P-N Junction । এই রেকটিফাইং ডায়োডের এন-টাইপ (N-Type) অংশকে বলে ক্যাথোড (Cathode) এবং পি-টাইপ (P-Type) অংশকে বলা হয় আনোড (Anode) । একে আবার একমুখী ডিভাইসও বলা হয়ে থাকে শুধুমাত্র একদিকে কারেন্ট পরিবহনের কারনে ।

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স

লাইট ইমিটিং ডায়োড কাকে বলে, এর কাজ কি?

এটি দুই স্তর এবং এক জাংশন বিশিষ্ট ডিভাইস । লাইট ইমিটিং ডায়োডকে সংক্ষেপে এলইডি (LED) বলা হয়ে থাকে । নরমাল P-N Junction ডায়োডের মত এই ডিভাইসেরও একটি P-N Junction থাকে । এটির এন-টাইপ (N-Type) এবং পি- টাইপ (P-Type) বিশেষ পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয় যাতে করে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ফরওয়ার্ড বায়াস দিলে জাংশনের মাঝে দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত করা শুরু হয় এবং সাথে সাথে আলো জ্বলে উঠে । এই ধর্মের কারনেই একে লাইট ইমিটিং ডায়োড বা এলইডি (LED) বলা হয়ে থাকে ।

বেসিক ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন এই পর্যন্তই ছিলো । আশা করছি আমাদের লিখাগুলো আপনাদের কাজে আশবে । আমাদের লিখাগুলো ভালো লাগলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন আশা রাখছি । পরবর্তী লিখা পেতে EEEcareer এর সাথেয় থাকুন ।

LEAVE A REPLY