সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে কৌতহল ? | Submarine Cable in Bangla

2
2823
সাবমেরিন ক্যাবল

সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে কৌতহল ? | Submarine Cable in Bangla

সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে প্রায় মানুষেরই বেশ কৌতহল রয়েছে । এই ক্যাবল কিভাবে কাজ করে,কিভাবে স্থাপন করা হয় আবার এর প্রয়োজনীয়তা কেমন এইসব বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন । আজকের লিখাতে সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে যে তথ্যগুলো আপনা পাবেন সেগুলো সংক্ষেপ ভাবে প্রশ্ন আকারে শুরুতেই দেয়া হল ।

১। সাবমেরিন ক্যাবলের ইতিহাস ।

২। সাবমেরিন ক্যাবল কি ?

৩। এটাকে কেন এই নামে ডাকা হয় ?

৪। সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা কি ?

৫। এই ক্যাবল সাগরের এত গভীরে কিভাবে স্থাপন করা হয় ?

৬। সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ কত হয় ? 

৭। বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল মডেলের নাম কি কি ?

৮। স্যাটেলাইটের তুলনায়  সাবমেরিন ক্যাবলের সুবিধা বেশি কি কারনে ?  

সাবমেরিন ক্যাবল

সাবমেরিন ক্যাবলের ইতিহাস

উপরে মহাকাশের যে স্যাটেলাইট যোগাযোগ বাবস্থা রয়েছে সেই যোগাযোগ বাবস্থার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এক দেশ হতে অন্য দেশ অথবা এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশের মাঝে খুব দ্রুত গতি সম্পন্ন যোগাযোগের মাধ্যম গড়ে তোলা হয়েছে সাবমেরিন ক্যাবলের দ্বারা ।

সর্বপ্রথম ফরাসী সরকার ১৮৫০ সালে এই ক্যাবলের মাধ্যমে যোগাযোগ বাবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিল  ইংল্যান্ডের এবং ফ্রান্স এর টেলিগ্রাফ সংযোগ করার উদ্দেশ্যে । প্রথম বারের প্রচেষ্টায় সেটা বার্থ হলেও সেটা সফলতার মুখ দেখে ১৮৫৩ সালে । তখনকার সময়ে কপারের তার ব্যাবহার করা হতো । পরে সেটা উন্নতি হয়ে আলোক তন্তু বা অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাবহারের শুরু করা হয় ।

সাবমেরিন ক্যাবল কি ?

মূলত সমগ্র পৃথিবীর সাথে ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগের উদ্দেশ্যে যে  আলোক তন্তু বা অপটিক্যাল ফাইবার সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে  ব্যাবহার  করা হয় তাকে বলা হয় সাবমেরিন ক্যাবল ।

সাবমেরিন ক্যাবল

এটাকে কেন এই নামে ডাকা হয় ?

সাবমেরিন ক্যাবলে সাব মানে আমরা বুঝি নিচে আর মেরিন মানে বুঝি সমুদ্র । আবার এই সিস্টেম বাস্তবায়ন করার জন্য সাগরের গভীর দিয়ে এই ক্যাবলে টানা হয় । অনেক গভীর দিয়ে এই যোগাযোগ বাবস্থা স্থাপন করা হয় বলে গভিরতম যানবাহণ সাবমেরিন এর সাথে তুলনা করে একে সাবমেরিন ক্যাবল নামে ডাকা হয় ।

সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা কি ?

নানারকম মাধ্যম দ্বারা সংগীত বা খবর বা অন্য কোন কিছু প্রচার করা হলেও দূর্যোগকালীন সময় অথবা খারাপ আবহাওয়াতে খুব দ্রুত তথ্যের আদান প্রদান করার জন্য টেলিগ্রাফ বা তার সবথেকে সহজ এবং বেশি উপযোগী হয়ে থাকে ।

তাই খুব বাজে আবহাওয়াতে বা দূর্যোগকালীন সময়ে সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা অপরশিম । আবার এক স্থান হতে অন্য স্থানে খুব কম সময়ে নানারকম মাদ্ধম যেমন, টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট, বিপুল পরিমান ভিডিও বা  অডিও এর তথ্য বিনিময় একেবারে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে করা সম্ভব হয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে । যদিও আমাদের বাংলাদেশে এই সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যাবহার খুব বেশি দিন হয়নি কিন্তু এটা আসার পরে আমরা ঘোরে বসেই দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যাবহার করতে পারি । খুব কম সময় ধরে এই ক্যাবলের যোগাযোগ বাবস্থাপনা শুরু হলেও আমরা অনেক বেশি নির্ভরশীল এখন এই সাবমেরিন ক্যাবলের উপড়ে। একরকম বলা যায় সাবমেরিন ক্যাবল যদি ত্রুটি দেখা দেয় তাহলে আমাদের ইন্টারনেট বাবস্থাপনা অচল হয়ে যাবে যেটা আমাদের দেশকেও অচল করে দেবার ক্ষমতা রাখে ।

সাবমেরিন ক্যাবল

এই ক্যাবল সাগরের এত গভীরে কিভাবে স্থাপন করা হয় ?

সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করার জন্য জাহাজ ব্যাবহার করা হয়ে থাকে । এই জাহাজের মাধ্যমে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল সমুদ্রের তলদেশে নেয়া হয় । নানারকম আঘাত এবং সামুদ্রিক প্রাণী থেকে সুরক্ষার জন্য ক্যাবলের প্রটেকশন সিস্টেম করা হয় । সাধারনত  স্কু-ডাইভার এর সহায়তায় সমুদ্রের গভীরে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হয় ।

  সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ কত হয় ? 

সাবমেরিন ক্যাবল এর ব্যান্ডউইথ টেরাবাইট/সেকেন্ড (Tbps) পর্যন্ত হয়ে থাকে । আমাদের দেশে যে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করা হয় সেটার ব্যান্ডউইথ ১,৫০০ গিগাবাইট/সেকেন্ড  (Gbps) পর্যন্ত দেয়া । সাবমেরিন ক্যাবলে লাইট সোর্স হিসেবে লেজার বা এলইডি (Laser or LED) ব্যাবহার করা হয়ে থাকে । এটি লাইটের পূর্ণ-অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনকে ডাটা একদেশ হতে অন্যদেশে নিমিষেই নিয়ে যায় । বাংলাদেশে দুটি সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন হচ্ছে কুয়াকাটা এবং কক্সবাজারে ।

সাবমেরিন ক্যাবল

বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল মডেলের নাম কি কি ?

বাংলাদেশ দুইটি সাবমেরিন ক্যাবল দ্বারা অন্যান্য দেশের সাথে তথ্যের আদান প্রদান করে থাকে সেগুলো হলোঃ

SEA – ME – WE -4 এবং SEA – ME – WE -5

এই ছোট ছোট সব্দগুলোর পূর্ণরূপ হচ্ছে,

  • SEASouth East Asia 
  • WEWest Europe
  • MEMiddle East

এই সাবমেরিন ক্যাবল Turkey, Tunisia, Thailand, Indonesia, Italy, Egypt, France, Pakistan, UAE, Saudi Arabia, Bangladesh, India, Sri Lanka, Malaysia, Myanmar, Singapore দেশগুলো অতিক্রম করেছে ।

সাবমেরিন ক্যাবল

স্যাটেলাইটের তুলনায়  সাবমেরিন ক্যাবলের সুবিধা বেশি কি কারনে ?  

  • এটি একটি গাইডেড মিডিয়াম ।
  • সাবমেরিন ক্যাবলের ডাটা স্পিড স্যাটেলাইটের তুলনায় অনেক বেশি হয় ।
  • এর ডাটা পৌছানোর গতি আলোর গতির সমান ।
  • সাবমেরিন ক্যাবলের সিগন্যাল লস অনেক কম হয় ।

বন্ধুরা সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে আমাদের লিখাগুলো আজকের আর্টিকেলে এই পর্যন্তই ছিলো । আমরা খুব শিগ্রয় আবার আসবো আপনাদের মাঝে আরো নতুন কিছু তথ্য নিয়ে । আমাদের লিখাগুলো ভালো লাগলে কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরধ রইলো । আপনাদের মতামত আমাদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে, EEEcareer আপনাদের সদা সেবা দিতে প্রস্তুত ।

2 COMMENTS

  1. Sir apnader ai page AMR kase onek vlo lage Porte r bujte but, aktu problem hosche phone theke Porte tai Jodi aiter kno herd paper (books) name diten vlo hto Porte.. dhonnobad apnake

    • আমরা আপনাদের জন্য খুব শিগ্রয় পিডিএফ এর বাবস্থা করতে চলেছি ভাইয়া । আমাদের সাথেয় থাকুন ।

LEAVE A REPLY