সুইসগিয়ার নিয়ে সহজ ভাষায় পূর্ণাঙ্গ আলোচনা | Switch Gear in Bangla

4
8904
সুইসগিয়ার

সুইসগিয়ার নিয়ে সহজ ভাষায় পূর্ণাঙ্গ আলোচনা

আজ আমরা সুইসগিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেস্টা করব । যারা ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স এর ছাত্র ছাত্রি তাদের কাছে এই নামটা খুব পরিচিত । জব অথবা আমাদের দৈনন্দিন প্রায় সব কাজের সাথেয় সুইসগিয়ার অতপ্রত ভাবে জড়িত । ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স এর সকল অপারেশন সুইসগিয়ারের মাধ্যমে হয়ে থাকে ।

সুইসগিয়ার নিয়ে যে বিষয়গুলো জানবো আজ সেগুলো হলোঃ

১। সুইসগিয়ার কাকে বলা হয় ?

২। সুইসগিয়ারের শ্রেণিবিভাগ কিভাবে হয় ?

৩। কি কি উপাদান নিয়ে সুইসগিয়ার গঠিত ?

৪। সুইসগিয়ার এবং প্রটেকটিভ ডিভাইসগুলোর কি কি গুনাবলী থাকা দরকার ।

সুইসগিয়ার

সুইসগিয়ার কাকে বলা হয় ?

সাধারনত বৈদ্যুতিক বাবস্থপনাকে শর্টসার্কিট অথবা অন্যান্য দোষজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন বাবস্থা রাখা হয়ে থাকে । আর এই ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্যই সুইসগিইয়ারের ব্যবহার । যেটা দ্বারা বৈদ্যুতিক বাবস্থপনাকে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থায় অফ (OFF) অথবা অন (ON) করা যায় এবং নানারকম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায় । তাই বলা যায়, সুইসগিয়ার মূলত একটি সুইচিং বাবস্থা বা নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র যেটার মাধ্যমে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বসানোর কাঠামো, মাপার সরঞ্জাম, কক্ষ এবং কানেকশনের সমষ্টিকে বোঝানো হয়

সুইসগিয়ারের শ্রেণিবিভাগ কিভাবে হয় ?

সুইসগিয়ারকে ভোল্টেজের উপরে ভিত্তি করে দুই(০২) ভাগে ভাগ করা যায়,

  • এলটি গিয়ার (LT Gear)
  • এইসটি গিয়ার (HT Gear)

এইসটি গিয়ারকে আবার ব্যাবহারের ক্ষেত্র অনুসারে দুই(০২) ভাগে ভাগ করা যায় যথা,

  • ইনডোর গিয়ার (Indoor Gear)
  • আউটডোর গিয়ার (Outdoor Gear)

কি কি উপাদান নিয়ে সুইসগিয়ার গঠিত ?

এর প্রধান দুইটি উপাদান হচ্ছে, রিলে (Relay) এবং সার্কিট ব্রেকার (Circuit Breaker) । সাধারনত কোন সরঞ্জাম বা লাইনে ত্রুটির দেখা দিলে রিলের সাহায্যে সার্কিটটি অফ (OFF) হয়ে যায় ।

সুইসগিয়ার

সুইসগিয়ারের অনন্য আরো কিছু উপাদান হলোঃ

  • বাসবার ।
  • মেজারিং ইন্সট্রুমেন্ট ।
  • কন্ডাক্টর এবং ট্রিপিং ইন্সট্রুমেন্ট ।
  • ইন্সট্রুমেন্ট ট্রান্সফরমার ( কারেন্ট ট্রান্সফরমার এবং ভোল্টেজ ট্রান্সফরমার )

সুইসগিয়ার এবং প্রটেকটিভ ডিভাইসগুলোর কি কি গুনাবলী থাকা দরকার ।

সুইসগিয়ার এবং প্রটেকটিভ ডিভাইসগুলোর কিছু অত্যাবশ্যকীয় গুনাবলী থাকতে হয় । নিচে উল্লেখিত গুনাবলী থাকলে আমরা সেই সুইসগিয়ার এবং প্রটেকটিভ ডিভাইস সমুহকে ভালো বলে পারি ।

সংবেদনশীলতা ( Sensitivity ): ত্রুটিজনিত অবস্থায় যেই পরিমান কারেন্ট প্রবাহিত হোকনা কেনো সেই ত্রুটিযুক্ত অংশকে অবশ্যই বিচ্ছিন্ন করতে হবে । কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় নির্দিষ্ট লোড হতে সামান্য বেশি লোডের কারনে সিস্টেমে কোন সমস্যা হওয়া যাবেনা ।

সুইসগিয়ার

শনাক্তকরণ ( Selectivity ): বৈদ্যুতিক সিস্টেমকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ প্রদান করার জন্য কেবলমাত্র ত্রুতিযুক্ত অংশকে শনাক্ত করা এবং সেটি সরবরাহ হতে বিচ্ছিন্ন করারও ক্ষমতা থাকা লাগবে ।

উচ্চগতি ( High Speed ): বিভিন্ন যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা, আয়ুকাল বৃদ্ধি এবং উত্তম সেবা প্রদান করার জন্য এটি উচ্চগতি সম্পন্ন হতে হয় । যত বেশি গতি হবে ত্রুটির কারনে ক্ষতি হবার প্রবনতা ততোই কম থাকবে ।

বিশ্বস্ততা ( Reliability ): এটি অবশ্যই বিশ্বস্ত হতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে যাতে এটি সঠিক সময়ে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে ।

ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ( Future Extension ): সুইসগিয়ারের যন্ত্রপাতি সুমহ এমন হতে হয় যাতে ভবিষ্যৎ পরিবর্ধন বা পরিবর্তনে কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি না করে ।

সরলতা ( Simplicity ): সুইসগিয়ার এবং প্রটেকটিভ ডিভাইসগুলোর অপারেশন এবং এর গঠন অবশ্যই সরল হতে হয় । যাতে নতুন কেউ খুব সহজেই এর অপারেশন বুঝতে পারে ।

সুইসগিয়ার

স্থায়িত্ব ( Stability ): এই ডিভাইসগুলোর স্থায়িত্ব বেশি হওয়াটা খুব জরুরী কারন বার বার পরিবর্তন সিস্টেমের সমস্যা তৈরি করে । কোন অপারেশন শেষে ডিভাইসগুলোর পূর্বের গুনাবলি ঠিক থাকা বাঞ্ছনীয় ।

সুইসগিয়ার নিয়ে  আমাদের আজকের আয়োজন এই পর্যন্তই ছিলো । আশা করছি আপনাদের সবার ভালো লেগেছে । আমাদের লিখাতে কোথাও ভুল হলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন আশা করছি । আপনাদের সকলের সৎ-উপদেশ আমাদের একান্ত কাম্য । সকলেই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং EEEcareer এর সাথেয় থাকুন ।

4 COMMENTS

  1. আমি ইন্জিনিয়ারিং পরি নাই,কিন্তুু আমি এগুলো জানতে চাই,কিভাবে সম্ভব?

    • আমাদের লিখাগুলো ভালো করে বুঝে পরুন । আর চাইলে ভালো কোন ট্রেইনিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেন ।

      • এখানে সাইটে একাউন্ট করবো কিভাবে অপশন খুজে পাচ্ছি না ভাই

        • আমাদের সাইটে একাউন্ট করার দরকার নেই ভাই । আপনি এমনিতেই সকল সুবিধা পাবেন ।

LEAVE A REPLY