আকাশে বিমান উড়ার কৌশল কি ? | Flying Plane in Bangla

2
1781

আকাশে বিমান উড়ার কৌশল | Flying Plane in Bangla

কিভাবে বিমান আকাশে উড়ে ( Flying Plane ) সেটা সম্পর্কে আজ আপনাদের ধারনা দিতে চলেছি আমরা । আপনাদের মনের মাঝে বিমান আকাশে উড়া নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন আশা করছি ।

মানুষের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানের সবথেকে বিস্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে উড়োজাহাজ বা বিমান আবিষ্কার করা । ভাবলেই কেমন অবাক লাগে তাইনা ? কিভাবে এতো বড় এবং ভারী একটা জিনিস তার ভেতরে অনেক মানুষ আর মালামাল নিয়ে কিভাবে আকাশ দিয়ে উড়ে বেরায় । এই প্রশ্নটা প্রায় সকলের মনেই করা নারে । কিন্তু আপনি যদি এই লিখাটা পরেন এবং উড়োজাহাজ উড়ে বেরানোর আসল কারন জানতে পারেন তাহলে আর আপনার মনের মাঝের এই প্রশ্নগুলো দ্বিতিওবার করা নারবেনা ।

Flying Plane

প্রথমেই আমরা জানবো বিমান আবিষ্কারের শুরুর কিছু কথা । এই বিমান বানানোর প্রথম ধারনা আসে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির আঁকা একটি ছবি হতে । আর এটি প্রথম করেন দুই ভাই, তারা হলেন Orville Wright  এবং  Wilbur Wright । সর্বপ্রথম আকাশে ওড়ার জন্য ১৯০৫ সালে এই দুই ভাই উড়োজাহাজ বা বিমান  তৈরি করেছিল ।

উড়োজাহাজ মূলত বাতাসের চাপ কে কাজে লাগিয়ে আকাশে উড়ে । শুধুমাত্র এখানে কিছু মাধ্যম ব্যবহার করা হয় যেটা বিমানকে আকাশে উড়ে বেরাতে সাহায্য করে । কারন আমরা জানি যে বস্তুর চারপাশে বাতাসের চাপ সবসমই সমান থাকে কিন্তু অভিকর্ষ বলের কারনে কোন বস্তুকে শুন্যে ছেড়ে দিলে তা নিচে পরে যায় । তাই আমরা সহজে বুঝতে পারছি যে, আমাদের এমন একটি মাধ্যমের বাবস্থা তৈরি করতে হবে যেটা কিনা অভিকর্ষন বা মধ্যাকর্ষন শক্তি এবং ঐ বস্তুর ওজনের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এবং বস্তুর চারপাশের বাতাসের চাপ প্রায় সমান করে দেয় ।

বিমানকে উপরে উড়ে বেরাতে হলে চারটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়, সেগুলো হলঃ

  • বিমানের ওজন “Weight” (অভিকর্ষ বলের জন্য এটি নিচের দিকে ক্রিয়া করতে থাকে বা নিচে পরতে চায়) ।
  • লিফট “Lift” (লিফট হচ্ছে উপড়ের দিকে উঠা) ।
  • থার্স্ট “Thrust” (এটি বিমানকে সামনের দিকে নিতে সাহায্য করে) ।
  • ড্র্যাগ “Drag” (এটি বিমানকে পেছনের দিকে নিতে সাহায্য করে) ।

উপড়ের এই চারটা মাধ্যমে খেয়াল রেখেই বিমানকে আকাশে উড়ানো হয় । এগুলো সম্পর্কে জেনে নেই এবার চলুন ।

Flying Plane

বিমানের ওজন “Weight”

আমরা আগেই বলেছি এবং সকলে জানি যে অভিকর্ষ বলের জন্য যে কোন বস্তুকে উপরে ছুরে মারলে সেটি আবার মাটিতে এসে পরে । বিমানের ক্ষেতরেও ঠিক একই কাজ হয়, অভিকর্ষ বলের কারনে এটি বার বার মাটিতে চলে আসতে চায় । ওজন যত বেশি হয় মাটিতে আসার প্রবণতা ততোই বেশি থাকে ।

লিফট “Lift”

এখানে যে বল বিমানকে আকাশে উড্ডয়ন করতে সহায়তা করে এবং অভিকর্ষ বলের বিপরিতে কাজ করে এটাকেই বলা হয় লিফট ।

লিফট এখানে কিভাবে কাজ করে সেটা সহজভাবে বুঝার জন্য আমরা একটা উদাহরন তুলে ধরছি ।ধরুন একটা পাইপ দিয়ে আপনি বাগানে পানি দিচ্ছেন । পাইপটা যখন আপনি হালকা চেপে ধরবেন তখন দেখবেন পানির বেগ বেড়ে গেছে কিন্তু চাপ কমে গেছে । মূলত এই নীতি ব্যবহার করে ইঞ্জিনের কার্বুরেটর পরিচালনা করা হয় যেটাকে বলা হয় ভেঞ্চুরী নীতি (Venturi Principle) । বিমানের ডানার দিকে খেয়াল করলে দেখবেন যে এটি কিছুটা বাঁকা হয়ে থাকে । বিমান যখন সামনের দিকে এগোতে থাকে তখন এই ডানা বাতাসকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয় । বিমানের ডানার উপরের দিকে থাকা অধিবৃত্তাকার আকৃতি থাকার কারনে বাতাস কম আয়তনের মধ্যে দিয়ে জেতে হয় ।

Flying Plane

কিন্তু ডানার নিচের অংশ সমান থাকার কারনে বাতাস কোন বাঁধা পায় না । এই রকম গঠন থাকার কারনে অর্থাৎ ডানার  উপরের দিকে বাতাসের চাপ কম এবং নিচের দিকে অনেক বেশি থাকার কারনে বিমান বাতাসের চাপে এটার ওজনের বিপরীতে কাজ করে মানে নিচে পরে যাবার পরিবর্তে উপরের দিকে উঠতে থাকে একেই বলা হয় লিফট । আকাস থেকে নামার সময় বিমানের এই ডানাকে হালকা বাকা করে উপরের বাতাসের চাপ বাড়ানো হয় এবং নিচে কমানো হয় । মূলত অনেক বেশি লিফট পাবার জন্যই বামিনকে অনেক দূরে থেকে রান করাতে হয় যাতে গতি বেশি থাকে । এই কারনেই দেখা যায় যে রানওয়েতে বিমান অনেক দূরে থেকে অনেক স্পিড নিয়ে উপরের দিকে উঠে যায় ।

ড্র্যাগ “Drag”

ড্র্যাগ হচ্ছে একটি বাঁধা জনিত বল । সহজ একটা উদাহারন দেই, ধরুন আপনার হাতে ৬ফুট উচ্চতার একটি লাঠি দেয়া হলো । এবার আপনি এই লাঠিটাকে বেশ জোরে ঘুরাতে থাকেন , দেখবেন লাঠিটা ঘুরতে কিছুটা বাঁধার সম্মখিন হচ্ছে বাতাসের কারনে । এই যে বাঁধা পেলে বমানেও একই বাঁধা পায় সামনে চলার সময় । তাই বলা যায়, বিমানের বিপরীত দিকে বাতাসের বাঁধাকেই বলা হয় ড্র্যাগ “Drag”

থার্স্ট “Thrust”

বিমান তো আকাশে উঠলো, কিন্তু বাতাস তো একে পিছনের দিকে Drag করে নামিয়ে দিতে চাইবে। কাজেই এই বলকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে চাই বল বা থার্স্ট। এ বল সূত্র কাজে লাগিয়ে সৃষ্টি করা হয়। বিমানের ইঞ্জিন থাকে এর ডানায়। বিমানের উইং বা ডানায় জেট ইঞ্জিনচালিত কম্প্রেসর ঘুরলে বাইরের বায়ু প্রচুর পরিমাণে ইঞ্জিনের ভিতরে প্রবেশ করে। ইঞ্জিনে ২টি চেম্বার থাকে। একটি কম্বাসশন চেম্বার, অন্যটিএয়ার চেম্বার। এই দুই চেম্বার থেকে প্রচন্ড বেগে বের হওয়া এক্সজস্ট গ্যাস পিছনের বায়ুতে আঘাত করে, ফলে নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুসারে পিছনের বায়ু থার্স্ট প্রয়োগ করে বিমান কে সামনের দিকে চলতে সাহায্য করে ।

Flying Plane

ইঞ্জিনের মাঝে দিয়ে বের হয়ে যাওয়া বায়ুর ৮০% এর এয়ার চেম্বার হয়ে বাহিরে বের হয়ে যায় বাকি ২০% কম্প্রেসড হয়ে কম্বাসশন চেম্বারে মধ্যে প্রবেশ করে এবং ফুয়েল কে জ্বলতে সহায়তা করে থাকে । এবং টার্বাইন ঘুরিয়ে যখন প্রচণ্ড গরম এক্সজস্ট গ্যাস বের হয় তখন সেটাও থার্স্ট এর সৃষ্টি করে থাকে ।

বিমানের আকাশে উড়া (Flying Plane) নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন এতোটুকুই ছিল । আমরা চেষ্টা করেছি সমুস্ত কিছু অল্প কথার মাঝে তুলে ধরার । আমাদের লিখাতে কোথাও ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরধ রইলো । EEEcareer সর্বদা আপনাদের সাহায্য আবেদন করে ।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY