অসিলস্কপের সম্পূর্ণ গঠন এবং বর্ণনা | Oscilloscope Bangla

0
3489
Oscilloscope

অসিলস্কপের সম্পূর্ণ গঠন এবং বর্ণনা | Oscilloscope Bangla

আজ আমরা অসিলস্কপ (Oscilloscope) সম্পর্কে জানবো । আমরা ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স এর ছাত্র ছাত্রীরা অসিলস্কপের সাথে কিছুটা হলেও পরিচিত । তাই আমরা আজ অসিলস্কপের সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারনা নিব । এই লিখাতে আমরা অসিলস্কপের বিভিন্ন অংশের কাজ সম্পর্কেও ধারণা নেবার চেষ্টা করব ।

অসিলস্কপের (Oscilloscope) যে বিষয়গুলো জানবো সেগুলো হলোঃ

১। অসিলস্কপ কাকে বলে ?

২। অসিলস্কপের প্রধান ৪টা অংশ ।

৩। অসিলস্কপের আরো অংশ সমূহ ।

৪। অসিলস্কপের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা ।

৫। অসিলস্কপের ব্যবহার ।

Oscilloscope

অসিলস্কপ কাকে বলে ?

এক কথায় অসিলস্কপ এক প্রকার বহুমুখী ইলেক্ট্রনিক্স এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইস যেটার মাধ্যমে যেকোনো সার্কিটের এনালাইসিস এর সাথে সাথে কারেন্ট, ভোল্টেজে, টাইম পিরিয়ড, ফ্রিকোয়েন্সী, এবং ফেজ কোণ ইত্যাদি পরিমাপের জন্য ব্যবহার করা হয় তাকে অসিলস্কপ বলা হয় ।

অসিলস্কপের প্রধান ৪টা অংশ

সাধারণত অসিলস্কপের প্রধান ৪টা অংশ থাকে,

ক। ক্যাথোড রে-টিউব ।

খ। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ।

গ। ডিফ্লেক্টিং আমপ্লিফায়ার সার্কিট ।

ঘ। সুইপ সার্কিট অথবা টাইম বেজ ।

অসিলস্কপের আরো অংশ সমূহ

১। পাওয়ার ল্যাম্প (Power lamp)

২। ফোকাস কন্ট্রোল (Inten comtrol)

৩। ইন্টেন কন্ট্রোল (Inten comtrol)

৪। ইলিয়াম কন্ট্রোল (Illum control)

৫। রোটেশন কন্ট্রোল (Rotation control)

৬। পাওয়ার কানেক্টর (Power conector)

৭। ভোল্টেজ সিলেক্টর (Voltage Seclector)

৮। ট্রিগারিং মোড সুইচ (Tiggering mood switch)

৯। ট্রিগার সোর্স সুইচ (Tigger Sourch Switch)

১০। গ্রাউন্ড কানেক্টর (Ground Connector)

১১। হরাইজন্টাল ডিসপ্লে সুইচ (Horizontal display switch)

১২। এক্স ইন কানেক্টর (X inConector)

১৩। অয়াই ইন কানেক্টর (Y in conector)

১৪। ভি মোড সুইচ (V mode switch)

১৫। ছি এইচ আই পজিশন কন্ট্রোল (CHI position control )

১৬। ছি এইচ আই আউটপুট কানেকশন (CHI output conection)

Oscilloscope

অসিলস্কপের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা  

ক্যাথোড রে-টিউবঃ ক্যাথোড রে-টিউবকে সংক্ষেপে CRT বলা । একে অসিলস্কপের হার্ট অথবা মেইন অংশ বলা হয় । ক্যাথোড রে-টিউবে সব ধরনের সিগন্যাল দৃশ্যমান হয়ে থাকে । CRT এর গান সেকশন থেকে সৃষ্টি হয় ইলেক্ট্রন বীম এবং এই ইলেক্ট্রন বীম বিভিন্ন এনডের সাহায্যে ইলেক্ট্রন বীমের গতী বেরে যায় এবং অত্তান্ত দ্রুত গতিতে ফসফর স্ক্রীনের উপড়ে আঘাত করার কারনে স্ক্রীনে সিগন্যাল দেখা দেয় । এখানে ফসফর জাতীয় পদার্থ দ্বারা স্ক্রীনের ভেতরের দিকে প্রলেপ দেয়া থাকে । এই কারনেই ইলেক্ট্রন বীম দ্বারা সৃষ্ট হওয়া আঘাতে আলোর সৃষ্টি হয়ে যায় ।

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটঃ পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের মাধ্যমেই এমপ্লিফায়ার সার্কিট এবং ক্যাথোড রে-টিউবে পাওয়ার সরবরাহ করা হয় । এমপ্লিফায়ার সার্কিটে লো-ভোল্টেজ এবং ক্যাথোড রে-টিউবে হাই-ভোল্টেজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে ।

পাওয়ার ল্যাম্পঃ পাওয়ার সরবরাহের পরে যখন অসিলস্কপ অন হয়ে যাবে তখন পাওয়ার ল্যাম্প জ্বলে উঠবে ।

ইন্টেন কন্ট্রোলঃ ক্যাথোড রে-টিউবের ডিসপ্লেতে অনেক সময় আলো কম থাকে, এই আলো উজ্জ্বল করার জন্য ইন্টেন কন্ট্রোল নব ব্যাবহার করা হয়ে থাকে ।

ফোকাস কন্ট্রোলঃ এটা একটা নব, এর সাহায্যে অসিলস্কপের ডিসপ্লে অনুযায়ী আমাদের নির্ধারিত লাইন অথবা বিন্দুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোকাস কন্ট্রোল নব ব্যাবহার করা হয় ।

হরাইজন্টাল সেকশনঃ অসিলস্কপের এই অংশ ক্যাথোড রে-টিউবের হরাইজন্টাল সেকশন নির্দেশ করে থাকে । হরাইজন্টাল ডিফ্লেকশন, হরাইজন্টাল এমপ্লিফায়ার, ট্রিগার সার্কিট, সুইপ সার্কিট অথবা টাইম বেজ নিয়ে হরাইজন্টাল সেকশন গঠিত । ট্রিগারিং পাল্‌স এর সৃষ্টি হয় ট্রিগার সার্কিটের মাধ্যমে, এটা এক্সটারনল সিগন্যাল গ্রহন করে থাকে । এই ট্রিগারিং পালস সুইপ সার্কিট অথবা টাইম বেজকে ট্রিগার করে । হরাইজন্টাল এমপ্লিফায়ারে সুইপ সার্কিটের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সিগন্যাল পাঠান হয় । এই হরাইজন্টাল এমপ্লিফায়ারে সিগন্যাল চাহিদা অনুযায়ী অ্যামপ্লিফাই করার পরে  এখানে হরাইজন্টাল ডিফ্লেকশনে পাঠান হয় । সব শেষে হরাইজন্টাল ডিফ্লেকশন প্লেট তৈরি হওয়া সিগন্যাল হরাইজন্টাল ভাবে প্রদর্শিত হয় ।

Oscilloscope

ভার্টিক্যাল সেকশোনঃ অসিলস্কপের এই অংশ ক্যাথোড রে-টিউবের ভার্টিক্যাল সেকশন নির্দেশ করে থাকে । ভার্টিক্যাল ডিফ্লেকশন প্লেট, ডিলে লাইন এবং ভার্টিক্যাল এমপ্লিফায়ার নিয়ে ভার্টিক্যাল সেকশন গঠিত । সাধারণত আমরা যে সিগন্যাল পরিমাপ করব সেটাকে ভার্টিক্যাল এমপ্লিফায়ারে পাঠানো হয়ে থাকে এবং এটি সিগন্যালকে এমপ্লিফাই করার পরে ডিলে লাইনে দেয় । এই ডিলে লাইন অংশ প্রয়োজনমত সিগন্যালকে ডিলে করার পরে ভার্টিক্যাল ডিফ্লেকশন প্লেটে পাঠানো হয় । আর সবশেষে এই প্লেট সৃষ্ট সিগন্যালকে ভার্টিক্যাল আকারে প্রদর্শন করে থাকে ।

অসিলস্কপের ব্যবহার

অসিলস্কপের ব্যবহার অনেক যেমন, চিকিৎসা শাস্র, বিজ্ঞান, টেলিযোগাযোগ, প্রকৌশল ছবি পরীক্ষা, সিগন্যাল জেনারেটরের পালস  ইত্যাদি কাজে অসিলস্কপ ব্যবহার করা হয়ে থাকে । ফ্রিকোয়েন্সি, ওয়েব , ফেজ পার্থক্য, ভোল্টেজ এবং কারেন্ট দেখার জন্য অসিলস্কপ ব্যবহার করা হয় । আবার হৃদপিণ্ডের তরঙ্গের আকার পর্যবেক্ষণ করতে ইলেক্ট্র-কার্ডিও-গ্রামে অসিলস্কপের ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

বন্ধুরা এটাই ছিলো অসিলস্কপ নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন । আমাদের লিখাগুলো আপনাদের ভালো লাগলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন আশা করছি । আপনাদের পাশে থাকে আমাদের আরো বেশি অনুপেরনা দিবে, আপনাদের মাঝে আরো লিখা নিয়ে আসার সাহস দিবে । কোথাও ভুল মনে হলে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি । সুস্থ থাকুন এবং EEEcareer এর পাশে থাকুন ।

LEAVE A REPLY