বজ্রপাত থেকে বাঁচার ১০ উপায় | Safety Consultant 

0
1393
Safety Consultant 

বজ্রপাত নিয়ে কথা এবং বজ্রপাত থেকে বাঁচার ১০ উপায় | safety consultant 

বন্ধুরা আজ আপনাদের মাঝে বজ্রপাত নিয়ে কথা এবং বজ্রপাত থেকে বাঁচার ১০ উপায় (Safety Consultant) নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি  । আমাদের সকলেরই কথা গুলো জানা উচিৎ এবং সাবধান হওয়া দরকার ।  বজ্রপাতের পরিমান বেরেই  চলেছে , বজ্রপাতের কারনে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে । আমাদের দেশে বজ্রপাত কে মহামারী দুর্যোগ বলা হচ্ছে এখন ।

বৃষ্টির মৌসুমে বজ্রপাতের পরিমান খুব বেরে যায় আর তাতে মারা যায় নানা রকম পশুপাখি আর মানুষ । তাই চলুন আজ আমরা জানবো বজ্রপাত হওয়ার কারন এবং এর থেকে কিছুটা সাবধান হওয়ার মাধ্যম ।

আমাদের আলচনার তিনটা মুল বিষয় হচ্ছেঃ

১। বজ্রপাত কি?

২। বজ্রপাত কেন হয়ে থাকে?

৩। এর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য কিছু সাবধানতা ।Safety Consultant 

 বজ্রপাত কি?

আমাদের জানা পানি চক্রের নিয়মে পানি বাষ্পীভূত  হয়ে আবার আকাশে আশ্রয় নেয় এবং সেগুলো মেঘ আকারে ভাসতে থাকে । আর এই ভেসে থাকা মেঘই হচ্ছে বজ্রপাতের কারন । মেঘ বৈদ্যুতিক চার্জের মত কাজ করে থাকে । বিজ্ঞানের মতে পানি চক্রের বাষ্পীভূত হওয়া জলকণা যখন উপরের আকাশে উরতে থাকে তখন নিচের দিকে থাকা মেঘের ঘনীভূত তুষার অথবা বৃষ্টি কোনার সাথে সংঘর্ষ হয়ে যায় । প্রথমে আলোর প্রচণ্ড ঝলকানি (বিদ্যুৎ এর) এবং তারপরে প্রচন্ড শব্দের সৃষ্টি এটাকেই বজ্রপাত বলে ।

 বজ্রপাত কেন হয়ে থাকে ?

সকলেরই জানা আছে যে বায়ূমন্ডলের নিচের অংশের তুলনায় উপরের অংশে তাপমাত্রা কম থাকে । আর উপরের এই কম তাপমাত্রার কারনেই উপরের বায়ূমন্ডলে মেঘের প্রবাহ হয়ে থাকে । বিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের মেঘকে থান্ডার ক্লাউড বলে হয়ে থাকে ।

থান্ডার ক্লাউড ছোট ছোট পানির কণার মাধ্যমে গঠিত হয় । যখন পানির কণাগুলো উপড়ে উঠতে থাকে তার সাথে সাথে পানির পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে থাকে । পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পেতে যখন এই পানি পাঁচ মিঃ মিঃ (5 mm) এর বেশি হয়ে যায় তখন পানির অনুগুলো নিজেদের মাঝে পারস্পরিক বন্ধনটা আর ধরে রাখতে পারেনা এবং আলাদা হয়ে যায় । এই আলাদা হওয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় Disintegrate বলে । পানির অনুগুলোর পারস্পরিক বন্ধন আলাদা হওয়ার কারনে সেখানে আবার বৈদ্যুতিক আধানের (Electric Charge)  তৈরি হয়ে যায়, এবং এই আধানের মান নিচের আকাশের তুলনায় উপরের আকাশে বেশি হয়।

Safety Consultant 

জখন উপরের আকাশের তুলনায় নিচের আকাশে বৈদ্যুতিক আধানের মান কম হয় , দুই আকাশের মাঝে এই বিভব পার্থক্যের ( Potential Difference ) কারনেই  তখন উপরের দিকে থেকে নিচের দিকে বৈদ্যুতিক আধানের নিরগমন ঘটে থাকে আর আমরা আলোর ঝলকানি দেখতে পাই, যাকে লাইটনিং বলা হয় । এই আধানের ক্রিয়ার কারনেই ঐ এলাকায় বাতাসের সংকচন  এবং প্রসারনের কারনে আমরা অনেক জোরে শব্দ শুনতে পেয়ে থাকি । এই শব্দের সৃষ্টি একটি মেঘ এবং ভূমি অথবা দুটি মেঘের মধ্যে ঘোটতে পারে ।

বজ্রপাত  এর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য কিছু সাবধানতা 

আমরা সবাই জানি যে বজ্রপাতের কারনে কতোটা সমস্যার মাঝে আমরা পরতে পারি এবং এটা আমাদের জন্য কতোটা ভয়ংকর হতে পারে । যেহেতু আমরা বজ্রপাতের থামানোর কোন উপায় জানিনা তাই অন্তত কিভাবে আমরা বজ্রপাতের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারি সেটার উপায় খুঁজবো । এখানে আমরা কিছু সাবধানতা তুলে ধরলাম যেগুলো মানলে আমরা অনেকটাই নিরাপদ থাকতে পারব।

১। পানির কাছে থেকে দূরে থাকুন, পুকুর অথবা নদীর কাছে থাকবেন না , আপনি যদি মোটরসাইকেল অথবা সাইকেল এর উপরে থাকেন তাহলে যত তারাতারি পারা যায় নিরাপদ কোন স্থানে চলে যান এবং বজ্রপাত না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন ।

২। কখনো খোলা মাঠ অথবা খোলা কোন স্থানে দাঁড়ানো যাবেনা, কারন বজ্রপাত সবসময় উঁচু যায়গাতে হয় । যদি আশেপাশে কোন উঁচু যায়গা না থাকে তাহলে আপনিই হবেন উঁচু যায়গা আর বজ্রপাত ওখানেই ঘটবে ।

Safety Consultant 

৩। কোন গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবেনা কারন আগেই বলেছি উঁচু যায়গাতে বজ্রপাত বেশি ঘটে ।

৪। আশেপাশে যদি পাকা বাড়ি থাকে তাহলে সেখানে আশ্রয় নেয়াই সবথেকে ভালো, বৈদ্যুতিক  লাইনের পোলের পাশে অথবা টেলিফোনের খুঁটির পাশে একদম দারানো  ঠিক হবেনা । তাই ট্রাই করুন পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিতে ।

৫। বজ্রাপাতের কারনে আক্রান্ত কোন বেক্তির শরীরে খালি হাতে স্পর্শ করা যাবেনা , কারন তার শরীরে বিদ্যুৎ থাকতে পারে অনেক সময় ধরে । তাই শুকনো কাঠ দিয়ে তাকে ধাক্কা দিতে পারেন ।

৬। খোলা মাঠ অথবা খোলা কোন স্থানে থাকলে লক্ষ্য করুন তার এর টানা কোন বৈদ্যুতিক  খুঁটি আছে নাকি, যদি পেয়ে যান তাহলে দুই পোলের মাঝে তারের ঠিক নিচের দিকে দাঁড়ান । আর চেষ্টা করুন যতটা পারা যায় মাথাটা নিচু করে রাখার ।

৭। সাধারনত বজ্রাপাতের শব্দ শোনার আগেই সেটা মাটিতে পরে , এটা মানুষের শরীরে পরলে মৃত্যু অবধারিত । তাই এটা থেকে সাবধান থাকাই শ্রেয় ।

৮। আবহাওয়া  বিভাগের রাডারে বজ্রাপাতের সম্ভাবনা ধরা পরার সাথে সাথে “নাউকাস্টনিং” এর মাধ্যমে মিডিয়াতে প্রচার করার বাবস্থা রাখতে হবে যাতে সবাই নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে । তাহলে বজ্রাপাতের কারনে মানুষের মৃত্যুর হার অনেকটা কমে যাবে ।

৯। অফিস, বাসা অথবা ব্যবসা  প্রতিষ্ঠানের সকল বৈদ্যুতিক  সুইস বন্ধ করে রাখুন । বৈদ্যুতিক  সংযোগযুক্ত  পানির ফোয়ারায় গোসল দেয়া যাবেনা যখন ঝড় বৃষ্টি হবে ।

Safety Consultant 

১০। কর্ডযুক্ত  ফোনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন, কোন ধাতব পদার্থে হেলান অথবা হাত দিয়ে দারাবেন না যেগুলো মাটির সাথে সংযুক্ত আছে ।

আমাদের দেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাস ঝড় – বৃষ্টি বেশি হয় তাই এই তিন মাস একটু সাবধান এ চলাফেরা করতে হবে । তাছাড়া পৃথিবীতে কমপক্ষে একশত (১০০টা) বজ্রপাত হয় কোথাও না কোথাও , তাই সবসময় সাবধানে থাকাই ভালো ।

আজ এই পর্যন্তই ছিলো আমাদের বজ্রপাত নিয়ে আলোচনা, আশা করছি আপনাদের সকলেরই ভালো লাগবে এবং আপনারা সবাই কিছুটা হলেও সাবধান হতে পারবেন । আমাদের লিখা ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন , তাহলে সকলেই সাবধানতার কথা মাথায় রাখবে । সাথেই থাকুন EEEcareer এর ।

LEAVE A REPLY