স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ ও বিচরন (তৃতীয় পর্ব) | Satellite in Bangla

2
448
Satellite in Bangla

স্যাটেলাইটের তৃতীয় পর্ব | Satellite in Bangla

স্যাটেলাইটের(Satellite in Bangla)তৃতীয় পর্ব নিয়ে আজ আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি আজ । আপনারা এর মাঝেই আমাদের আগের পর্বগুলো থেকে স্যাটেলাইট সম্পর্কে বেশ কিছু ধারনা পেয়াছেন । আগের ধারনাগুলো থেকে আপনাদের মাঝে আরো কিছু প্রশ্নের উৎপত্তি হবার কথা । চলুন আপনাদের মাঝে চলে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নিন ।

যেসকল প্রশ্নের উত্তর জানবো আমরাঃ

১। মহাকাশে কিভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয় ?

২। স্যাটেলাইটে কিভাবে পাওয়ার সরবরাহ করা হয়ে থাকে ?

৩। ঘূর্ণয়মান হবার পরেও স্যাটেলাইট কিভাবে গ্রাউন্ড স্টেশণের সিগনাল রিসিভ করে?

৪। এটি কিভাবে পৃথিবীর চারদিকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ঘুরে ? স্যাটেলাইট ভূ-পৃষ্ঠে পড়ে যায়না কেন ?

উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর জানবো এবার,

মহাকাশে কিভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয় ?

মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার জন্য মহাশূন্য যান ব্যবহার করা হয় । এই যানকে বলে উৎক্ষেপণ যন্ত্র বা Launch Vehicle । স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে কয়েকটি বিষয়ে অনেক বেশি মনযোগী হতে হয় সেগুলো হলো মহাশূন্য যানটির গতি এবং অভিকর্ষজ ত্বরণের মাঝে সমতা বজায় রাখতে হয় । এই কারন আমরা সবাই জানি যে, অভিকর্ষজ ত্বরনের কারনে উৎক্ষেপণ যন্ত্রটি ভূপৃষ্ঠের দিকে আলাদা একটা টান কাজ করে ।

Satellite in Bangla

আবার এই উৎক্ষেপণ যান দুই ধরনের হয়ে থাকে একটি মহাশূন্য শাটল আরেকটি অপচয়যোগ্য রকেট । এই মহাশূন্য শাটল স্যাটেলাইট স্থাপনের জন্য বার বার ব্যবহার করা হয় আর অপচয়যোগ্য রকেটগুলো স্যাটেলাইট স্থাপনের কাজ শেষে ধ্বংস হয় বার এর আর কোন কাজ থাকেনা । স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের গতিবেগ নির্ভর করে এটা কতো উচ্চতায় পাঠানো হবে সেটার উপড়ে । উচ্চতা বেশি হলে এর গতিবেগ ৩.১ কি.মি./সেকেন্ড. হয়ে থাকে যেমন, (GEO= Geostationary Earth Orbit) এ এই গতিবেগ দেয়া হয় । আবার উচ্চতা কম হলে গতিবেগ ৭.৮ কি.মি./সেকেন্ড. হয় যেমন, (LEO=Low Earth Orbit ) এ এই গতিবেগ দেয়া হয় ।

স্যাটেলাইট কি এবং প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

স্যাটেলাইট এর গঠনপ্রণালী,আপলিঙ্ক,ডাউনলিঙ্ক,ব্যান্ডউইথ এবং গ্রাউন্ড স্টেশন সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

স্যাটেলাইটে কিভাবে পাওয়ার সরবরাহ করা হয়ে থাকে ?

স্যাটেলাইটে পাওয়ার সরবরাহ করার জন্য প্রত্যেকটা স্যাটেলাইটে ৩২,০০০ সোলার সেল মাউন্টেড করা হয়ে থাকে । এই সোলার সেলগুলো ৫২০ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার সরবরাহ করতে সক্ষম । এখানে আবার ব্যাকআপ হিসেবে ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি ব্যাবহার করা হয় । অনেকসময় নিউক্লিয়ার পাওয়ার সোর্স ব্যবহার করা হয়ে থাকে । স্যাটেলাইটের পাওয়ার সিস্টেমের এই প্রসেসকে সারবক্ষনিক পৃথিবী হতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় । স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন সিস্টেমকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য এতে একটি অনবোর্ড কম্পিউটার থাকে ।

Satellite in Bangla

ঘূর্ণয়মান হবার পরেও স্যাটেলাইট কিভাবে গ্রাউন্ড স্টেশণের সিগনাল রিসিভ করে?

এই ঘটনাটা বোঝা্নোর জন্য আপনাদের কাছে একটা মজার উধাহরন উপস্থাপন করছি । মনেকরেন, আপনি এবং আপনার আরেকটা বন্ধু পাশাপাশি বোসে দুইটা বৃত্ত আকাবেন । কিন্তু কথা হছে আপনাদের মাঝে একজনের বৃত্ত ছোট আরেকজনেরটা একটু বড় করে আকাতে হবে এবং আকানো শেষ হতে হবে সমান সময়ে । তাহলে কিভাবে সম্ভব এটা ? হুম এটা সম্ভব , কারন যার বৃত্তটা বড় তাকে আঁকানোর গতি বাড়াতে হবে তাহলেই দুজনের আঁকানো একসাথে শেষ হবে ।

এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, পৃথিবীর নিজ অক্ষকে একবার আবর্তন করতে ২৪ ঘন্টা সময় লাগলে স্যাটেলাইটেরও ঠিক সমান সময়ই লাগে । এর মানে হচ্ছে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে স্যাটেলাইটকে স্থির মনে হলেও সেটা স্থির নয় । এটাও পৃথিবীর সাথে সমান তালে ঘুরছে । অনেকসময় হালকা সময়ের তফাৎ দেখা দিলে স্যাটেলাইট সেটা নিজস্ব গ্যাসীয় উদগীরণের মাধ্যমে মানিয়ে নিয়ে সমান গতিতে ঘুরতে থাকে ।

এটি কিভাবে পৃথিবীর চারদিকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ঘুরে ? স্যাটেলাইট ভূ-পৃষ্ঠে পড়ে যায়না কেন ?

আমরা পদার্থবিজ্ঞানের পরমাণু অধ্যায় থেকে জেনেছি যে পরমানুর কক্ষপথে ইলেকট্রন কিভাবে ঘুরে এবং কেন এগুলো নিউক্লিয়াস এ পতিত হয়না । স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম । পৃথিবীর কেন্দ্র বরাবর একটা বল কাজ করে যখন এটি পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে । এই বলকে কেন্দ্রমুখী বল বলা হয় । স্যাটেলাইটের উপড়ে আরেকটা বল কাজ করে যেটাকে বলে কেন্দ্রাবিমুখী বল । এই কেন্দ্রাবিমুখী বল স্যাটেলাইটকে তার কক্ষপথ হতে ছিটকে নেয়ার চেষ্টা করে । আর এই কেন্দ্রাবিমুখী বল এবং কেন্দ্রমুখী বল সমান থাকার কারনে এটি পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে একটি নির্দিষ্ট বেগ অনুসরন করে । আর এই কারনেই স্যাটেলাইট পৃথিবীর চারদিকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ঘুরে এবং ভূ-পৃষ্ঠে পড়েনা ।

Satellite in Bangla

স্যাটেলাইট কি এবং প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

স্যাটেলাইট এর গঠনপ্রণালী,আপলিঙ্ক,ডাউনলিঙ্ক,ব্যান্ডউইথ এবং গ্রাউন্ড স্টেশন সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

তৃতীয় পর্বে আমাদের আয়জন(Satellite in Bangla)এই পর্যন্তই ছিলো । আশা রাখছি স্যাটেলাইট নিয়ে এখন আপনাদের মাঝে অনেক ধারনা হয়েছে । আমাদের লিখাগুলো ভালো লাগলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন আশা রাখছি । সকলে সুস্থ থাকুন EEEcareer এর সাথেয় থাকুন ।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY