রেজিস্টর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা | Types of Resistor Bangla

2
983
Types of Resistor

রেজিস্টর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা | Types of Resistor Bangla

রেজিস্টর (Types of Resistor) ইলেক্ট্রনিক্স সার্কিটে সব থেকে বেশি ব্যবহার করা ডিভাইস এবং এর প্রকারভেদও অনেক । অন্যোন্য যে সকল ডিভাইস ইলেক্ট্রনিক্স কাজে ব্যবহার করা হয় তার মাঝে রেজিস্টর সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়, প্রায় সকল ইলেক্ট্রনিক্স এর কাজেই এর ব্যবহার । তাই আজ আমরা রেজিস্টর সম্পর্কে বিস্তারিত  জানার চেষ্টা করব।

আমরা আজ রেজিস্টরের সম্পর্কে যা যা শিখতে চলেছিঃ

১। রেজিস্টর কাকে বলে?
২। রেজিস্ট্যান্স কি?
৩।  রেজিস্টরের একক এবং এর প্রতিক ।
৪। রেজিস্টরের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট ।
৫। রেজিস্টরের প্রকারভেদ সমূহ।
৬। রেজিস্টরের কাজের বর্ণনা।
৭। এর সিরিজ এবং প্যারালাল  সংযোগ পদ্ধতি ।
৮। রেজিস্টরের পাওয়ার রেটিং বলতে কি বোঝায় ?

রেজিস্টর কাকে বলে? রেজিস্ট্যান্স কি?

রেজিস্টর মূলত পাসিভ ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইস। রেজিস্টর কারেন্ট প্রবাহের হারকে বাঁধা প্রদান করে থাকে। আর এই বাঁধা এর পরিমান কতটুকু হবে সেটা নির্ভর করে রেজিস্টরের রেজিস্টিভিটির উপরে। তাই এক কথায় বলা যায় কারেন্ট প্রবাহের হারকে বাঁধা প্রদান করা ডিভাইসকে রেজিস্টর বলা হয়।
যখন রেজিস্টর সংযোগ দেয়া হয় তখন পরিবাহির যে বৈশিষ্ট এর কারনে কারেন্ট প্রবাহের হার বাঁধাগ্রস্থ হয় তাকে  রেজিস্ট্যান্স বলে।

Types of Resistor

রেজিস্টরের একক এবং এর প্রতিক

রেজিস্টরের একক হচ্ছে ওহম বা (ohm)। রেজিস্টরকে R দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ওহম কে গ্রিক অক্ষর (Ω) দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। রেজিস্টরের একক এবং এর প্রতিক নিচের চিত্র থেকে খুব সহজে বুঝতে পারব।

রেজিস্টরের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট

১। রেজিস্টর দুই টার্মিনাল বিশিস্থ ডিভাইস।
২।রেজিস্টর পাসিভ ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইস।
৩। রেজিস্টর একটা ননপোলার ডিভাইস।
৪। ইহা একটি লিনিয়ার ডিভাইস ।

রেজিস্টরের প্রকারভেদ সমূহ(Types of Resistor)

রেজিস্টর সাধারনত দুই(০২) প্রকার কিন্তু এই দুই প্রকার রেজিস্টরের মধ্যেও আবার প্রকারভেদ রয়েছে, সেগুলো হলঃ
১। ফিক্সড রেজিস্টর
  ১.১ কার্বন রেজিস্টর
  • কার্বন ফিলা রেজিস্টর
  •  সলিড রেজিস্টর
১.২ মেটাল রেজিস্টর
  • মেটাল ফিলা রেজিস্টর
  • মেটার অক্সাইড ফিলা রেজিস্টর

Types of Resistor

১.৩ মেটাল গ্লেজড টাইপ রেজিস্টর
  • চিপ রেজিস্টর
  • চিপ নেটওয়ার্ক রেজিস্টর
  • নেটওয়ার্ক রেজিস্টর
১.৪ অন্যান্য
  • ওয়্যার আউন্ড রেজিস্টর
  • থেরিস্টর
  • ভেরিস্টর
২ ভেরিয়েবল রেজিস্টর
২.১ মেটাল গ্লেজড টাইপ রেজিস্টর
  • চিপ ভেরিয়েবল রেজিস্টর
২.২ কার্বন বেজড টাইপ ভেরিয়েবল রেজিস্টর
  • কার্বন বেজড টারনিং টাইপ ভেরিয়েবল রেজিস্টর
২.৩ ওয়্যার আউন্ড টাইপ ভেরিয়েবল রেজিস্টর

ফিক্সড রেজিস্টর

ফিক্সড, এই নামটা শুনেই বঝা যাচ্ছে যে এটা  পরিবর্তনশীল নয়,মানে এই রেজিস্টর বানানোর সময় যে পরিমান মান ফিক্সড করে দেয়া হয় সেটাই থাকে। বাজারে গিয়ে শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী মাপের রেজিস্টর চাইলেয় এটা পাওয়া যাবে। এগুলোর মান আমরা কম বেশি করতে পারিনা এটা একদম ফিক্সড শুধুমাত্র কিছুটা টলারেঞ্ছ এই ধরনের রেজিস্টরের ।  তাই একে ফিক্সড রেজিস্টর বলে হয়।

Types of Resistor

ভেরিয়েবল রেজিস্টর

ভেরিয়েবল, এটা  পরিবর্তনশীল রেজিস্টর। মানে আমরা আমাদের কাজের সুবিধা অনুযায়ী রেজিস্টরের মান সেট করে নিতে পারি, এই রেজিস্টরের মান সাধারনত একটা নির্ধারিত রেঞ্জ এর মাঝে থাকে । নির্ধারিত রেঞ্জ এর বাহিরে আবার আমরা এই রেজিস্টর ব্যবহার করতে পারিনা। যেহেতু এই রেজিস্টরের মান কম অথবা বেশি করা যায় তাই একে ভেরিয়েবল রেজিস্টর বলা হয়।

রেজিস্টরের সিরিজ এবং প্যারালাল  সংযোগ পদ্ধতি

আমরা জানি যে, যেখানে কারেন্ট প্রবাহের একটা পথ থাকে সেই সংযোগ পদ্ধতিকে সিরিজ সংযোগ বলে এবং যে সংযোগ পদ্ধতিতে কারেন্ট প্রবাহের একাধিক পথ থাকে সেই সংযোগ পদ্ধতিকে প্যারালাল সংযোগ বলে ।
যখন সিরিজ সংযোগ দেয়া হয় তখন একপাশে সাপ্লাই রেখে যতগুলো লোড সংযোগ দেয়া প্রয়োজন সেগুলো একের পরে এক সংযোগ দেয়া হয়, আর এই সংযোগ পদ্ধতিকে সিরিজ সংযোগ বলে । আর যখন প্যারালাল  সংযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তখন একপাশে সাপ্লাই রেখে যতগুলো লোড সংযোগ দেয়া দরকার সেগুলো সাপ্লাই এর আড়াআড়িতে সংযোগ করা হয় যেখানে কারেন্ট প্রবাহের একাধিক পথ থাকে । একে প্যারালাল সংযোগ পদ্ধতি বলা হয়।
আমরা নিচের চিত্রের দিকে লক্ষ্য করলে খুব ভালভাবে বুঝতে পারব কিভাবে রেজিস্টরের সিরিজ এবং প্যারালাল  সংযোগ দেয়া হয়।

Types of Resistor

 রেজিস্টরের কাজের বর্ণনা

আমাদের উপরের আলচনা থেকেই ধারনা করতে পারছেন রেজিস্টরের কাজ কিরকম। আসলে রেজিস্টরের মুল কাজই হচ্ছে কারেন্ট প্রবাহে বাঁধা প্রদান করা। আমরা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাপের রেজিস্টর ব্যবহার করে থাকি। যেখানে যে পরিমান সাপ্লাই দরকার সেখানে ঠিক সেই পরিমান কারেন্ট আমরা সাপ্লাই করতে পারি। কারন আমরা জানি, কোন লোডের নির্ধারিত করা পাওয়ার এর তুলনায় বেশি পরিমান পাওয়ার সরবরাহ দিলে সেই লোডের উপড়ে প্রেশার পরে অনেকসময় লোডে থাকা ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স এর যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যেতে পারে । এইসব কারনে কোথাও কারেন্ট সরবরাহ করা প্রয়োজন হলে রেজিস্টরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

রেজিস্টরের পাওয়ার রেটিং বলতে কি বোঝায়?

যখন রেজিস্টরের মাঝে দিয়ে কারেন্ট সাপ্লাই দেয়া হয় তখন রেজিস্টরটি গরম হয়ে যায় এবং এই সময় তাপ আকারে কিছু পাওয়ার অপচয় হয়ে যায় । আর রেজিস্টরটি কেমন গরম হবে সেটা নির্ভর করে এটার মাঝে দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট এর উপরে। কারন কারেন্ট বেশি প্রবাহিত হলে তাপ বেশি হবে এবং কারেন্ট কম প্রবাহিত হলে রেজিস্টরটি কম গরম হবে। আবার অনেক সময় দেখা যায় অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে রেজিস্টরটিও পুরে যেতে পারে তাই এটার মান জেনে ব্যবহার করা উচিৎ। তাই আমরা রেজিস্টরের পাওয়ার রেটিং বলতে বুঝি, সর্বোচ্চ  যে পরিমান কারেন্ট সরবরাহ করার পরে রেজিস্টরটি কোন প্রকার সমস্যা ছাড়া পূর্ণ দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে পারে তাকে রেজিস্টর পাওয়ার রেটিং বলা হয়।
রেজিস্টর নিয়ে এটাই ছিল আমাদের আজকের আয়োজন। আমাদের লিখাগুলোতে কোথাও ভুল থাকলে অনুরোধ থাকল আপনাদের সাহায্য পাবার। লিখা নিয়ে অথবা রেজিস্টর নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আমাদের সাথেই থাকুন। EEEcareer এর পক্ষ থেকে সবার প্রতি শুভকামনা।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY